বৃহস্পতিবার । ২৫শে জুন, ২০২৬ । ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩

মহেশ্বরপাশা এলাকায় মিটারের সার্ভিস তার চুরির হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা এলাকায় প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও বাসা বাড়ির সার্ভিসিং, এসির তার, মোবাইল চুরির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চোরের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না মসজিদের সার্ভিসিং, এসির তারও। পাশাপাশি বেড়েছে মাদকসেবীদের তৎপরতা। এলাকাবাসীর অভিযোগ নেশার টাকা জোগাড় করতে এলাকায় চুরির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না চুরির ঘটনা।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাতে মুন্সিপাড়া বিউটি বেগমের বাড়ির মিটারের সার্ভিস তার চুরি হয়। একই রাতে মামুন শেখের বাড়ির এসির তার চুরির উদ্দেশ্যে টানাটানি করে ব্যর্থ হয় চোর। ২১ জুন রাতে পালপাড়া ইসলামাবাদ মসজিদ সংলগ্ন মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া কলেজের শিক্ষক মনোয়ারা বেগমের বাড়ির এসি সংযোগের তার চুরি হয়। একই রাতে কালী মন্দিরের পিছনে আব্দুল মান্নানের বাড়ির সার্ভিস তার চুরি হয়।

১৯ জুন রাতে মুন্সিপাড়া আলী (রাঃ) জামে মসজিদের সার্ভিস তার এবং এসি সংযোগের তার চুরি হয়। ১৮ জুন মসজিদ সংলগ্ন জয় ম্যানশনের বাড়ির তিনটা মিটারের সার্ভিস তার চুরি হয়। একই রাতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মামুন শেখের বাড়ি থেকে মূল্যবান মোবাইল চুরি হয়। জানালার ফাঁক দিয়ে মোবাইলটি চুরি করে নিয়ে যায় চোর।

মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মহেশ্বরপাশা সোনালী অবসরের সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খোকন বলেন, ‘১৮ জুন রাতে আমার বাড়ির ৩টি মিটারের সার্ভিস তার চুরি হয়। পর দিন নতুন তার কিনে সংযোগ স্থাপন করি। ২১ জুন রাতে পুনরায় তিনটি মিটারের সার্ভিস তার চুরি হয়। এলাকায় প্রতি রাতে কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে। সার্ভিসিং তারের পাশাপাশি এসি সংযোগের তার, মোবাইল, টাকা পয়সা, পানির মিটার চুরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমরা এলাকাবাসী মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

কার্তিকুল এলাকার গৃহিণী লাকি বেগম বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে আমাদের এলাকার কামাল শেখের বাড়ির পানির মিটারসহ ৭/৮টা পানির মিটার চুরি হয়েছে। মাসখানেক আগে কার্তিকুল পুলিশ ফাঁড়ির ভিতর থেকেও টিউবয়েল চুরি হয়। এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই।’

মহেশ্বরপাশা বাজারের মুদি দোকানদার গোলাম রসুল বলেন, ‘কিছুদিন আগে রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘরের ভিতরে বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে গেছি, এরমধ্যে চোর ঘরের ভিতর প্রবেশ করে মোবাইল, টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। আশেপাশে সর্বদা চোরের উৎপাত। ঘেরের পাড়ের কলা, ডাব, সবই চুরি হচ্ছে। সুযোগ পেলেই চোর মানুষের ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। এলাকায় বহু ঘটনা আছে নাম বলে শেষ করা যাবে না। মহেশ্বরপাশা এলাকায় গত এক বছরে ৯০ শতাংশ বাড়ির সার্ভিস তার চুরি হয়েছে।’

মহেশ্বরপাশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অপরাধমূলক কার্যক্রম যাতে না হতে পারে এ কারণে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল রয়েছে। প্রতি রাতে এলাকায় তিন থেকে চারবার রাউন্ড টহল হয়। যারা অপরাধ করে তারা আমাদের থেকেও চতুর। অপরাধ দমনে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন